মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

রূপসার ইতিহাস

ঐতিহাসিক পটভূমি ও প্রশাসনিক ইতিহাস

ক) নৃতাত্ত্বিক পরিচয় :

বাংলার দক্ষিনাঞ্চলে গাঙ্গেয় উপ-দ্বীপ বলে পরিচিত। একাধিক নদী পুরো স্থলভূমিকে অসংখ্য দ্বীপ-উপদ্বীপে পরিনত করেছে। নানা প্রাকৃতিক উত্থান-পতন ও জোয়ার ভাটায় নদী ভেঙেছে, চর পড়েছে, প্লাবিত হয়েছে জমি, জেগে উঠেছে নতুন নতুন স্থলভূমি।

 এ সময় দক্ষিনের এ দ্বীপ অঞ্চলের নাম ছিল চন্দ্র দীপ। নানা ভাগ উপভাগে আবার বিভক্ত ছিল এ দ্বীপাঞ্চল। চন্দ্রদ্বীপের পূর্ব দিক, বাগেরহাটের অধিকাংশ অঞ্চল রাঙদ্বীপ (রাঙদিয়া) ও মধুদীপ (মধুদিয়া) পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বর্তমান রূপসা উপজেলা ছিল এ উপ-দ্বীপের সাথে সংযুক্ত। পুরো অঞ্চল ছিল সুন্দরবনের অংশ।

   খ) খুলনা নামের উৎপত্তি ও রূপসার স্থান :

    অতীতকাল থেকে এ অঞ্চলের মানুষ সুন্দরবন থেকেই কাঠ সংগ্রহ করত। এ এলাকার যত কাঠ প্রয়োজন হতো তা আসত সুন্দরবন থেকে। কাঠ সংগ্রহকারী বাওয়ালী গোষ্ঠী ছাড়াও ছাড়াও মধু ও মোম আহোরন করতে ক্ষুদ্র এক গোষ্ঠি জড়িত ছিল। প্রচুর মাছ ছিল সুন্দরবনের নদী এ খাল গুলোয়। তবে এখান থেকে ব্যবসায়িক ভিত্তিতে মাছ আহোরনের চিন্তা অতীতে ছিল না। তবে সুন্দরবনে যারাই যেত জনপদের শেষ সীমা নয়াবাদ নামের এক জায়গায় তারা স্থান নিত। বন কেটে বসতি গড়ে তোলার নতুন আবাদ ছিল এটা। ভৈরব নদী সেনের বাজার কে উত্তরে ফেলে পূর্বে মোড় নিয়েছে যেখানে, এটা ছিল সে জায়গা। এখানে সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য অপেক্ষা করত নৌকার বহর। রাতে কেউ নৌকা খুলতে চাইলে “বনদেবী” বারন করত, বলত, খুলো না। কালে কালে খুলনা নামের উৎপত্তি এখান থেকেই বলে অনেকের ধারনা।

       তবে খুলনা নামের সূচনা নিয়ে আরও একটি গ্রহনযোগ্য কিংবদন্তী আছে। তা হলো, অতীতে ধনপতি নামে এক সওদাগর বাস করতেন এ অঞ্চলে। তার দুই স্ত্রী ১) লহনা এ ২) খুল্লনা। লহনা সন্তানবর্তী তবে ঈর্ষাপরায়না ছিলেন। ধনপতি বানিজ্যে গেলে খুল্লনা কে কষ্ট দিতেন। অন্যদিকে অপরূপ সুন্দরী খুল্লনা ছিলেন বন্ধ্যা। এ জন্য দৃ:খের সীমা ছিল না তার। অবশ্য ধনপতি প্রচন্ড ভালবাসতেন খুল্লনা কে। তার নামে ভৈরবের পাড়ে খুল্লনেশ্বরী মন্দির গড়ে তোলেন। এখন থেকে প্রায় পৌনো দুশো বছর আগে এ মন্দির নদীগর্ভে (বর্তমান আঠারবেকী) বিলীন হয়ে যায়। তার পর থেকে ঐ গ্রামের নাম হয় খুলনা। পরবর্তীতে কিসমত খুলনা। দেখা যাচ্ছে, খুলনা নামের উৎপত্তি নিয়ে দুটো কিংবদন্তীই বর্তমান রূপসা উপজেলা অঞ্চলে প্রচলিত রয়েছে।     

      গ) রূপসা নামের উৎপত্তি :

                               ভৈরব নদের সাথে রূপসা উপজেলা তথা খুলনার ইুতহাস ওতোপ্রতভাবে জড়িত। বস্তুত: ব্যবসা কেন্দ্র হিসাবে খুলনার যাত্রা ভৈরবকে কেন্দ্র করেই। ভৈরব দক্ষিনাঞ্চলের সবচেয়ে দীর্য়্য নদী। এক সময় ভয়ংকর মুর্তি ছিল এই নদীর। এভন সেই তান্ডব রূপস আর নেই। ভৈরবের উৎপত্তি এই রূপসায়। মালদহের মধ্যদিয়ে শ্রুতকীর্তি নদ যেখানে পদ্মায় পড়েছে তার উল্টো দিক থেকে ভৈরবের শুরু। কিছু দুর এসে জলঙ্গী নদীর সাথে মিশে পরে আবার মুক্ত হয়ে মেহেরপুর, দর্শনা, কোটচাঁদপুর ও যশোর হয়ে এসছে খুলনায়। সেনের বাজারকে বায়ে ফেলে ঘুরে গেছে পূর্বে। ওদিকে দক্ষিনের পশুর নদী খুলনার পূর্ব দিকের বিল পর্যন্ত বিস্তৃত। পশ্চিমে বিল পাবলা থেকে উল্লেখিত একটা খাল দক্ষিনে ময়ুর নদীতে (মৈয়ারগাঙ্গ) মিশে।

রূপসা উপজেলার ঐতিহ্য সমূহ নিম্নরূপ :

ক্র:নং

নাম

অবস্থান

মন্তব্য

০১

বীর শ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ও বীর বিক্রম মুহিবুল্লার সমাধি

রূপসা ঘাট সংলগ্ন এলাকা

৩ নং নৈহাটি ইউনিয়ন

রূপসা,খুলনা।

বীর শ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত।

০২.

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এর পূর্ব পুরুষের আদি

ভিটা।

গ্রাম : পিঠাভোগ

৫ নং ঘাটভোগ ইউনিয়ন

রূপসা,খুলন।

বিশ্ব কবি উপাধিতে ভূষিত কবিগুরু ও নোবেল বিজয়ী।

০৩.

রূপসা নদীর উপর অবস্থিত খান জাহান আলী সেতু।

গ্রাম:জাবুসা

৩ নং নৈহাটি ইউনিয়ন

রূপসা,খুলনা।

রূপসা উপজেলার সর্ব বৃহৎ

সেতু যা জেলার সংগে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম।

০৪.

ভৈরব নদী

৪ নং টি এস বাহিরদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ

রূপসা খুলনা।

যা পূর্বে বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ নদী গুলোর মধ্যে একটি।

০৫.

বিপুল সংখ্যক সী ফুডস (মাছ কোম্পানী)

রূপসা ঘাট সংলগ্ন এলাকা

৩ নং নৈহাটি ইউনিয়ন

রূপসা,খুলনা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মৎস্য রপ্তানি করে বিপুল সংখ্যক

বৈদেশিক মুদ্যা আয় করে থাকে যা অর্থনিতীর অন্যতম উৎস

 

 

 

 

 

 

 

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter