undefined

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতৃকূল পিঠাভোগের কুশারী বাড়ী

 

        বাংলা সাহিত্যের প্রবাদ পুরুষ রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতি তথা বাঙালী জাতীকে বিশ্বের কাছে উন্নীত করেই ক্ষান্ত হননি তিনি বস্ত্তত বাঙালী জাতী সত্তার প্রান পুরুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিতকরেছেন তার বহুদা বিস্তৃত প্রতিভায়। স্বাভাবিক কবিবরীন্দ্রনাথের পাশাপাশি ব্যক্তি মানুষ রবীন্দ্র নাথ কে সহজ সত্যে ধারন করতে হয়েছে তার পূর্ব পুরুষের উত্তরাধিকারকে। এই বংশজাত উত্তরাধিকারের ঐতিহাসিক ধারায় অবিচ্ছেদ্যভাবে, ভৌগলিক সীমার আবর্তে তিনি আবর্তিত না হয়েও, ভৌগলিক অবস্থানের ঐতিহাসিক পরিচয়কে অস্বিকার করতে পারেননি। আর তাই খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার ৫ নং ঘাটভোগ ইউনিয়নের অধীন পিঠাভোগ গ্রাম রবীন্দ্রনাথের পিতৃকূলের ইতিহাসের সাথে অবিচ্ছিন্ন ভাবে জড়িত। রবীন্দ্রনাথের জীবন এবং বংশগত ধারা আলোচনা করতে গেলে এই পিঠাভোগ প্রাম এসে দাড়াই অপরিহার্য ভাবেযাকে অস্বিকার করার কোন যৌক্তিক হেতু নেই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তথা ঠাকুর বংশের পূর্বপুরুষ পিঠাভোগ গ্রামের কুশারী বংশের বিচ্ছিন্ন একটি লতিকা ঠাকুর বংশের পূর্বপুরুষ---এ সত্য ঐতিহাসিক ভাবে বিস্তৃত।

খুলনা জেলা রূপসা উপজেলার ৫ নং ঘাটভোগ ইউনিয়নের পিঠাভোগ এবং ঘাটভোগ ভৈরব তীরবর্তী একটি প্রাচীন জনপদ।ভৈরব অববাহিকার শ্রোতধারা ধরে যে সব জনপদ গড়ে তার অন্যতম প্রাচীন জনপদ পিঠাভোগ-ঘাটভোগ। ইতিহাস সাক্ষীদেয় হযরত খানজাহান আলীর আগমনের প্রায় দুই শতাব্দী আগেই এখানে জনপদ গড়ে ওঠে। পিঠাভোগের আদি গোত্রীয় ব্রাক্ষণ বাসিন্দা কুশারী গোষ্ঠীপতি বংশ।

কুশারী বংশের উৎপত্তিঃ

কুশারী বংশের ইতিহাস ও বেশ বিস্তৃত। খ্রিষ্টীয় অষ্টম থেকে একাদশ শতকের মধ্যে আদিশুরের রাজত্ব কালে কান্য কুঞ্জ থেকে পাঁচ জন ব্রাক্ষণ বঙ্গ দেশে আসেন। জলবেষ্টিত বঙ্গ দেশে যখন হিন্দু ধর্মের প্রাধান্য ক্রমশঃ সংকুচিত হয়ে বৌদ্ধ প্রভাবাচ্ছন্ন হতে শুরু করল,তখন বৌদ্ধ প্রভাবাচ্ছন্ন বঙ্গ দেশে হিন্দু ধর্মের বিস্তার করা ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। এই পঞ্চ ব্রাক্ষণ এর মধ্যে শান্ডিল্য গোত্রীয় ক্ষিতিশ ছিলেন অন্যতম। ক্ষিতিশের পুত্র ভট্টনারায়ন বঙ্গদেশে স্থিতিত হয়।ভট্ট নারায়নের পুত্র দীননাথ শান্ডিল্য গোত্রীয় সিদ্ধশ্রোত্রীয় ব্রাক্ষণ মহারাজ ক্ষিকিশুরের অনুগ্রহে বর্ধমান জেলার ’কুশ’’ নামক গ্রামের অধিকার পেয়ে কুশারী গোত্রভূক্ত হন। সেখান থেকে কুশারী বংশের উৎপত্তি ঘটে। খ্রিষ্টিয় চর্তুদশ শতকে কুশারী বংশের ভিন্ন ভিন্ন শাখা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা বাকুড়া এবং তৎকালীন যশোর পরবর্তী খুলনায় কুশারী বংশীয়দের বাসভূমি গড়ে ওঠে। খুলনার পিঠাভোগ ভৈরব তীরবর্তী উত্তর পার্শ্বে রাম গোপাল কুশারী বসতী স্থাপন করেন। রাম গোপালের পুত্র জগন্নাথ কুশারী কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতৃকূলের আদি পুরুষ।

পিরালী জাতের উৎপত্তিঃ

খুলনা জেলার দক্ষিন ডিহির রায় চৌধুরী বংশ পিরালী ব্রাক্ষণ হিসেবে সমাজে পতিত। পঞ্চদশ শতকে দক্ষিন ডিহিতে বসবাস করতে কণকদন্ডী, গুড় গাঞিভূক্ত রায় চৌধুরী ব্রাক্ষন গণ। কন্যকুঞ্জ থেকে আগত  দক্ষের বংশধর এই রাঢ়ী ব্রাক্ষণদের উত্তর পুরুষ জ্ঞানানন্দ রায় চৌধুরীরর তনয় জয় কৃষ্ণের পুত্র নাগর নাথ ও দক্ষিনা নাথ ঐ দক্ষিনডিহির বাসিন্দা ছিলেন। (বঙ্গদেশে পঞ্চ ব্রাক্ষণের আগমনের প্রায় দুই শতাব্দি পরে) হযরত খান জাহান আলী বঙ্গদেশ তথা বাংলাদেশে আসেন। তিনি  পয়ো গ্রাম কসবা জয়করে তার সহচর মোহাম্মদ তাহির কে সে অঞ্চলের শাসক নিয়োগ করেন। এই তাহিরের আনুকূল্যে দক্ষিনানাথের দুই পুত্র কামদেব ও জয় দেব তার কর্মাধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। কথিত আছে একদা রোজার সময় মোহাম্মদ তাহির কে এক প্রজা একটি কলম্বা লেবু উপহার দিলে তিনি তার গন্ধ নিতে থাকেন। তখন কামদেব ও জয়দেব তাকে বললেন হিন্দুশাস্ত্রে আছে গ্রানে অর্ধেক ভোজন বিধায় তার রোজা নষ্ট হয়ে গেছে। মোহাম্মদ তাহির এর প্রতিশোধ নিতে একদিন আমত্যবর্গকে প্রাসাদে নিমন্ত্রন করেন। তার পাশেই (প্রতিশোধের জন্য) মাংস রান্না হচ্ছিল। কামদেব জয়দেব নাকে কাপড় দিয়ে বসে ছিলেন। প্রশাসক মোহাম্মদ তাহির তাদের নাকে কাপড় কেন জিজ্ঞাসা করায়, তারা উত্ত দেন মাংস রান্নার গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। মোহাম্মদ তাহির সুবর্ন সুযোগ পেয়ে তাদের জনান ঐ মাংস গো- মাংস অতএব তার গন্ধে অর্ধেক ভোজন হয়ে গেছে। সুতরাং তাদের জাত গেছে। কামদেব ও জয়দেব দুই ভাই জাতিচ্যুত হয়ে মুসলমান ধর্ম পরিগ্রহ করেন।এর ফলশ্রতিতে ভ্রাতৃ সংশ্রব জনিত কারনে রতিদেব ও সুকদেব রায় চৌধুরী পিরালী ব্রাক্ষণ হয়ে সমাজে পতিত হন। এখান থেকেই পিরালী জাতের উৎপত্তি। আর এই পিরালী বংশে ঘটনাক্রমে পিঠাভোগের বিত্তশালী জগন্নাথ কুশারী বিবাহ করেন।

কুশারী থেকে ঠাকুরঃ

 জগন্নাথ কুশারীর পরবর্তী পঞ্চম পুরুষ পঞ্চানন কুশারী জ্ঞাতী কলহের কারনে পিঠাভোগের যাবতীয় স্থাবর/ অস্থাবর সম্পত্তি ভ্রাতার অনুকূলে হস্তান্তর করে ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী কলকাতা সুতানুটীর দক্ষিন দিকের গ্রাম গোবিন্দ পুরে গিয়ে বসবাস করেন। কথিত আছে সে সময় গোবিন্দপুরে বসবাস করত জেলে, মালো, কৈবর্ত্য, পোদ, বণিক প্রভৃতি জাতী। মজার ব্যাপার এই তথাকথিত এত গুলি জল অনাচরনীয় শুদ্রের মধ্যে পঞ্চানন রাই এক ঘর ব্রাক্ষণ ছিলেন। ফলে এতদ অঞ্চলের লোকজন পঞ্চানন কুশারী কে ভক্তিভরে ’ঠাকুর’’ বলেডাকতেঅভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। কেবল তাই নয় এসময়ে ভাগীরথি নদীতে ইংরেজদেরবানিজ্য তরী ভিড়ত। সেই বানিজ্য তরীর মাল  উঠানো-নামানোর টিকাদারী এবং খাদ্য সামগ্রী সরবরাহের ব্যবসা শুরু করেন পঞ্চানন কুশারী। এ কাজে স্থানীয় লোকদের শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ করা হত। এই শ্রমিকেরা তাকে ঠাকুর বলে ডাকায়,জাহাজে কর্মরত কর্মচারী ও কাপ্তানদের কাছেও তিনি ঠাকুর বলে পরিচিত হন। এই ভাবে একদিন পঞ্চানন কুশারীর নাম ও উপাধী ’ঠাকুর’’ ডাকের অন্তরালে অস্তমিত হয় এবং কাগজে- কলমেও ’ঠাকুর’’ উপাধি জারি হয়ে যায়। কলকাতার গোবিন্দ পুরের বাসিন্দা পঞ্চানন কুশারী ওরফে পঞ্চানন ঠাকুরের পরবর্তী বংশধর নীলমনি ঠাকুর কলকাতার জোড়াসাঁাকোয় গিয়ে বাড়ী করেন। জোড়াসাঁকোর এই বিখ্যাত ঠাকুর বংশে ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে জন্ম গ্রহন করেন বাংলা সাহিত্যের প্রবাদ পুরুষ, উজ্জ্বল নক্ষত্র, প্রথম বাঙালী নোবেল বিজয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

আত্মীয়তাঃ

রবীন্দ্রনাথের ২২ বছর বয়সে বিবাহ হয় দক্ষিনডিহি গ্রামের বেনীমাধব রায় চৌধুরীর কন্যা ভবতারিনী্ওরফে মৃনালীনি দেবীর সাথে। পিতৃকূল-মাতৃকূল এবং শ্বশুরকূলের সুবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার ৫ নং ঘাটভোগ ইউনিয়নের পিঠাভোগ গ্রামের কুশারী বাড়ী এবং ফুলতলা উপজেলার দক্ষিনডিহি রায় চৌধুরী বাড়ী অঙ্গাঙ্গীন ভাবে জড়িত। স্থানীয় ভাবে শোনা যায় বরীন্দ্রনাথের বিবাহ উপলক্ষে তার পরিবারের সদস্যরা পিঠাবোগের কুশারী বাড়ী অবস্থান করে,অত্র অঞ্চলে মেয়ে দেখাশোনা করেন কিন্তু পিতৃপুরুষ কুশারী বংশের ভিটা পিঠাভোগে আসেননি কোনদিন। অমিতাব চৌধুরী রবীন্দ্রনাথ গ্রন্থ থেকে সূত্র খুজে পাওয়া যায়। তিনি খুলনাতে একটি মামলার সাক্ষী দিতে এসেছিলেন ১৯৩০খ্রিষ্টাব্দে। সে সময় তার সাথে যে চাকর ছিল তার নাম উমাচরণ। উমাচরণ কে দিয়ে তিনি খোজ নিয়েছিলেন খুলনা থেকে পিঠাভোগের দূরত্ব কত? এবং কিভাবে পিঠাভোগে যাওয়া যায়। তবে পিঠাভোগে তিনি গিয়েছিলেন বা যেতে পেরেছিলেন এমন কোন তথ্য যানা যায় না। এসূত্রে প্রতীয়মান হয় রবীন্দ্রনাথ একদা যেমন নিজেকে পরিচিত করেছিলেন দ্বারকানাথ ঠাকুরের নাতি বলে তেমনিহয়ত সংগোপনে নিজেকে পিঠাভোগ গ্রামের জগন্নাথ কুশারীর উত্তরাধিকারী বলেও দাবী করেছিলেন। সুতরাং রবীন্দ্রনাথের সাথে পিঠাভোগ গ্রামেরকুশারী বাড়ীর সম্পর্ককে বিচ্ছিন্ন বা অহেতুক বলে উড়িয়ে দেয়া যায় নি এবং ভবিষ্যতে উড়য়ে দেয়া যাবেনা।

১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার বানী নাট্য সংস্থা কুশারী পরিবার নামে একটি নাটক মঞ্চস্থ করে। সে নাটকে পিঠাভোগের কুশারী পরিবারের সমাজপতন, পিরালী শাখাভূক্ত হওয়া এবং তৎপরবর্তী কাহিনী উপস্তাপন করা হয়। এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত ভাবে জানা না গেলেও ঐ নাটক মঞ্চায়নের একটি আমন্ত্রন পত্র তার সাক্ষ্য বহন করে।

         কুশারী বংশের বিভাজনঃ

 জগন্নাথ কুশারীর পরবর্তী ৪র্থ পুরুষ মহেশ্বর কুশারীর দুই পুত্র পঞ্চানন ও প্রিয়নাথ কুশারী। পঞ্চানন কুশারীর স্ব-গ্রাম পিঠাভোগ ত্যাগ করে চলে যান কলকাতার গোবিন্দপুরে। দ্বিতীয় পুত্র প্রিয়নাথ কুশারী পিঠাভোগের বাড়ীতে বিষয়াদী দেখাশুনা করতে থাকেন। তৎপরবর্তীতে এই পরিবারেও খ্যাতিমান ব্যক্তিদের আগমন ঘটে। প্রিয়নাথ কুশারীর ৬ষ্ঠ পুরুষ রামচরণ কুশারীর ৩য় পুত্র তারিনীকান্ত কুশারী প্রচুর ধন সম্পদের মালিক হন। তিনি ইষ্টইন্ডিয়া শিপিং কর্পোরেশনের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর পদে চাকুরীর সুবাদে আলাইপুর পোষ্ট অফিস স্থাপন করেন। রূপসা টু বাগেরহাট রেলওয়ে কোম্পানীর শেয়ার কিনে দুই আনা অংশের মালিক হন। আলাইপুর থেকে ইষ্টিমার ঘাট পিঠাভোগে স্থাপন করেন। পরবর্তী কালে কুশারী পরিবারে বংশবৃদ্ধিজনিত কারনে বিভাজন বাড়তে বাড়তে এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলা মোকদ্দমার ফলে দারিদ্রতা  এসে গ্রাস করে।

                                                 পিঠাভোগ পুনরুদ্ধারঃ

 বৃটিশ আমল থেকে পিঠাভোগ কুশারী বাড়ী নিয়ে কবি সাহিত্যিক, ইতিহাসবিদ ও লেখকদের কৌতুহলের শেষ ছিলনা। তখনকার সময়েস্থানটি উদ্ধারের তৎপরতা চললেও, ঐ বংশের খ্যাতিমান লোকদের অসহযোগীতার কারনে সম্ভবপর হয়নি। পাকিস্থান আমলেও অনুরুপ চেষ্টা সাহিত্যিক ও ইতিহাসবিদদের মধ্যে শুধুমাত্র সীমাবদ্ধ ছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও পুনরুদ্ধারের জন্য বিভিন্ন সময় গুনীব্যক্তিদের পদচারনা থাকলেও খুব একটা অগ্রসর হয়নি। ফলে বিশ্ব কবির আদি পুরুষের ভিটা খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার ৫ নং ঘাটভোগ ইউনিয়নের কুশারী বাড়ীর প্রকৃত পরিচয় খানিকটা লোক চক্ষুর আড়ালে থাকলেও ১৯৯৫ সালে তৎকালীন খুলনা জেলা প্রশাসকের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং রূপসা উপজেলাপ্রশাসনের সক্রিয় সহযোগীতায় ঐতিহাসিক স্মৃতিময় স্থানটি পুনরুদ্ধার হয়। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন সহ স্থানীয় সাহিত্য প্রেমীএবং সুধীজনের পৃষ্ঠপোশকতায় পিঠাভোগের কুশারী বাড়ীতে রবীন্দ্র স্মৃতি সংগ্রশালা স্থাপিত হয়।

এ কাজে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেন তৎকালীন খুলনার জেলাপ্রশাসক, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিমনা জনাব কাজী রিয়াজুল হক, রূপসা থানার নির্বাহী অফিসার পি,বি রায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি), ডাঃ বিকর্ন কুমার ঘোষ। সাথে ছিলেন খুলনা ও রূপসা এলাকার কবি, লেখক, শিল্পি সাহিত্যিক সহ সর্বস্তরের সাহিত্য প্রেমী মানুষ।

 পিঠাভোগের জগন্নাথ কুশারীর অধ:স্তন ঠাকুর পরিবারের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল আর কোন বংশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়- রবীন্দ্রনাথ বাঙালীর পরিচিতি, আর তার পূর্ব পুরুষের স্মৃতিবাহী পিঠাভোগে কুশারী বাড়ীও বাঙালীর ঐতিহ্যের পীঠভূমি অবচেতন মানসের মুখোমুখি দাড়িয়ে একথা স্বীকার করতেই হবে।

 

যতায়াত :  রূপসা নদী পার হয়ে বাস কিংবা টেম্পুতে করে কাজদিয়া তারপর ভ্যানে করে সরাসরি পিঠাভোগ টেম্পু ষ্ট্যান্ড হয়ে সোজা রবীন্দ্র স্মৃতি সংগ্রহশালা। এছাড়া রূপসা থেকে সরাসবি মটর সাইকেলে করে রবীন্দ্র স্মৃতি সংগ্রহশালা।

ভাড়ার হার : মটর সাইকেলে সরাসরি আসলে ৮০-১০০ টাকা এবং বাসে এবং ভানে আসলে ২৫-৩০ টাকা।